June 23, 2026
যুগান্তর
রপ্তানি ও বিনিয়োগ বাড়লে বাণিজ্য ঘাটতি কমবে
বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘাটতির মূল কারণ শুধু আমদানি বৃদ্ধি নয়; বরং চীনের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়ছে না। বর্তমানে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত। কিন্তু চীনের বাজারে রপ্তানি এখনো সীমিত কয়েকটি পণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ। অন্যদিকে চীন থেকে বাংলাদেশে আসা পণ্যের তালিকা অত্যন্ত বিস্তৃত এবং উচ্চমূল্যের। ফলে আমদানি ও রপ্তানির মধ্যে ব্যবধান ক্রমেই বড় হচ্ছে। চীন বাংলাদেশকে প্রায় শতভাগ পণ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হিসাবে বাংলাদেশ এই সুবিধা পায়। এর আওতায় বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশের বেশি পণ্য শুল্কমুক্তভাবে চীনের বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেই সুবিধা কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চীনা বাজারে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় মান নিয়ন্ত্রণ, পণ্যের বৈচিত্র্য, বিপণন নেটওয়ার্ক এবং বাজার গবেষণার ঘাটতি রয়েছে। ফলে শুল্ক সুবিধা থাকা সত্ত্বেও রপ্তানি প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়ছে না। ঘাটতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো শিল্প খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা। দেশের অধিকাংশ শিল্প এখনো আমদানিকৃত কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভরশীল। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মধ্যবর্তী পণ্যের পরিমাণ কম হওয়ায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। এর বড় অংশই আসে চীন থেকে। ফলে শিল্প উৎপাদন বাড়লে আমদানিও বাড়ে, যা বাণিজ্য ঘাটতিকে আরও বিস্তৃত করে।
সমকাল
ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া ১৪ দিনে নামিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক বাধা কমাতে কাজ করছে। একটি ব্যবসা শুরু করতে যেখানে আগে প্রায় এক বছর সময় লাগত, সেখানে এখন মাত্র ১৪ দিনের মধ্যে ব্যবসা শুরুর সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একটি কোম্পানি ১৫তম দিনেই যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য এলসি খুলতে পারবে। সোমবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং শোভন কাজের এজেন্ডা সমন্বয়’ বিষয়ক ডিব্রিফিং সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এ ডিব্রিফিং সেশনের আয়োজন করে।
বণিক বার্তা
ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে উঠছে নতুন চাঁদাবাজ গোষ্ঠী
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প খাতে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ ঝুট বা ছাঁট কাপড় উৎপন্ন হয়। ঝুট মূলত তৈরি পেশাক কারখানায় উৎপাদিত কাপড়ের কাটা টুকরো, অবশিষ্ট সুতা ও ত্রুটিযুক্ত বাতিল পোশাক। এসব পুনর্ব্যবহার করে নতুন পোশাক তৈরি হয়। ঝুট কখনো জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয় কারখানার বয়লারে। বিভিন্ন গবেষণা ও শিল্পসংশ্লিষ্টদের অনুমান অনুযায়ী, এর পরিমাণ বছরে প্রায় চার থেকে ৫ লাখ ৭৭ হাজার টন। ঝুটকে ঘিরে গড়ে উঠেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি। গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, বগুড়া, গাইবান্ধা, পাবনাসহ বিভিন্ন জেলায় এ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় দুই লাখ মানুষের জীবিকা জড়িত। ঝুট অর্থনীতিকে ঘিরে বড় ধরনের রফতানি সম্ভাবনাও রয়েছে। জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেড ও বৈশ্বিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড এইচঅ্যান্ডএমের সহায়তায় পরিচালিত “‘টুয়ার্ডস আ সার্কুলার ইকোনমি ইন বাংলাদেশ’স অ্যাপারেল ইন্ডাস্ট্রি’ শীর্ষক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় নীতিসহায়তা, সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণ অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে বাংলাদেশ বছরে ৪-৫ বিলিয়ন ডলারের পুনর্ব্যবহৃত টেক্সটাইল পণ্য রফতানির সুযোগ তৈরি করতে পারে।
প্রথম আলো
তৈরি পোশাক রপ্তানিতে মূল্য সংযোজন কমেছে
তৈরি পোশাক রপ্তানিতে মূল্য সংযোজন টানা দুই প্রান্তিকে বৃদ্ধির পর কমেছে। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) মূল্য সংযোজন কমে হয়েছে প্রায় ৬১ শতাংশ, যা আগের প্রান্তিকে ছিল প্রায় ৬৪ শতাংশ।বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে মোট ৯১৯ কোটি ৭৮ লাখ মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানি হয়েছে ৩৫৫ কোটি ৫১ ডলারের। সেই হিসাবে এই প্রান্তিকে তৈরি পোশাকশিল্পের মূল্য সংযোজন দাঁড়িয়েছে ৬১ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
যুগান্তর
সম্পাদকীয় : অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতার রোডম্যাপ
সংকটের খতিয়ান তুলে ধরাই শেষ কথা নয়, বরং এই সংকট মোচনে সরকারের গৃহীত সংস্কারমুখী ও সাহসী পদক্ষেপগুলোও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। আশার কথা, প্রকল্প বাস্তবায়নে অতীতের স্থবিরতা ও দীর্ঘসূত্রতা দূর করতে বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকেই ‘বিশেষ ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড’ চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এছাড়া শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক-কর হ্রাস এবং তৈরি পোশাকের বাইরে অন্য যে কোনো খাতের রপ্তানিকারকদের জন্য বন্ড সুবিধা বা ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত আমদানির সুযোগ দেওয়া দেশের উৎপাদন খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার এক অনন্য উদ্যোগ। একই সঙ্গে এলসি খোলার বাধ্যবাধকতা শিথিল করার সিদ্ধান্তও ব্যবসায়িক গতিশীলতা বৃদ্ধি করবে।
প্রথম আলো
এলডিসি উত্তরণের প্রভাব মূল্যায়ন : সুরক্ষা লাগবে ৯২ পণ্যে, বিকল্প ব্যবস্থার সুপারিশ
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হিসেবে বাংলাদেশ যে এত দিন স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে পণ্য আমদানিতে প্যারা ট্যারিফ, অর্থাৎ শুল্কের বাইরে অতিরিক্ত কর আরোপ করে এসেছে, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর তা আর পারা যাবে না। বাংলাদেশ এত দিন নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (আরডি), সম্পূরক শুল্ক (এসডি) এবং ন্যূনতম শুল্কমূল্য, অগ্রিম আয়কর (এআইটি) ইত্যাদি প্যারা ট্যারিফ আরোপ করে এসেছে। এলডিসি উত্তরণের পর সেটি আর পারবে না। তাই এখন নতুন উপায় হিসেবে বাংলাদেশকে এখন ট্রেড রেমেডি ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হবে। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) জন্য বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই) পরিচালিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন সুপারিশ করা হয়েছে। জরিপ, সাক্ষাৎকার, ফোকাস গ্রুপ আলোচনা এবং অর্থনৈতিক মডেল বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে এ প্রতিবেদন। এতে বাংলাদেশের বর্তমান বাণিজ্য সুরক্ষাকাঠামো, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, রপ্তানিকারকদের চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।